সব পোস্ট সমাধান

মোবাইল ডেটা ব্যবহার করেও কীভাবে সন্তানকে নিরাপদ রাখবেন

বাড়ির Wi-Fi-তে ফিল্টার বসিয়েছেন, নিশ্চিন্ত আছেন। এবার একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন: সন্তান যখন নিজের ঘরে বসে Wi-Fi বন্ধ করে ডেটা চালু করে, তখন ওই ফিল্টারটা কোথায় থাকে?

কোথাও থাকে না। ওই মুহূর্তে সে সম্পূর্ণ খোলা ইন্টারনেটে। আর বাংলাদেশে ডেটা প্যাকেজের যা দাম, এই ফাঁকটা তাত্ত্বিক কিছু নয় — প্রায় প্রতিটা কিশোরের ফোনেই ডেটা থাকে।

ভালো খবর হলো ফাঁকটা বন্ধ করা যায়, এবং কাজটা পাঁচ মিনিটের।

Router-এর ফিল্টার ডেটায় পৌঁছায় না কেন

Router-এ DNS বসালে সেটা কাজ করে ওই Router-এর নেটওয়ার্কে, অর্থাৎ বাড়ির Wi-Fi-তে যুক্ত ডিভাইসে। সন্তান মোবাইল ডেটায় গেলে তার ইন্টারনেট আসে সরাসরি অপারেটরের নেটওয়ার্ক থেকে, আপনার Router-এর ধারেকাছ দিয়েও যায় না। তাই Wi-Fi-তে যা বন্ধ, ডেটায় তা খোলা।

সমাধান তাই একটাই: সুরক্ষাটা নেটওয়ার্কে না বসিয়ে ফোনের ভেতরে বসাতে হবে। তখন ফোন যেখানেই যাক, যে নেটওয়ার্কেই যুক্ত হোক, ফিল্টার সাথে যায় — বন্ধুর বাসার Wi-Fi-তেও।

Android: Private DNS

Android 9 থেকে প্রতিটা ফোনে Private DNS নামে একটা সেটিং আছে। এটা ফোনের নিজের ফিচার, কোনো অ্যাপ নয় — অর্থাৎ মুছে ফেলার মতো কিছু নেই, আর ব্যাটারি বা ডেটাও খরচ করে না।

  1. ড্যাশবোর্ড থেকে ওই প্রোফাইলের hostname-টা কপি করুন
  2. ফোনের Settings-এ গিয়ে সার্চ করুন Private DNS (না পেলে Network & Internet → Advanced-এর ভেতরে আছে)
  3. তিনটা অপশনের মধ্য থেকে বেছে নিন Private DNS provider hostname
  4. hostname বসিয়ে Save

ব্যস। Samsung, Xiaomi, Realme, Oppo, Vivo — সব ব্র্যান্ডে পদ্ধতি একই, শুধু মেনুর নামগুলো একটু এদিক-ওদিক হতে পারে। অপারেটর যেটাই হোক, Grameenphone হোক বা Teletalk, তাতে কিছু আসে যায় না; সেটিংটা ফোনের স্তরে কাজ করে।

iPhone, iPad ও Mac

এখানে Android-এর মতো এক ঘরে সেটিং নেই। একটা ছোট configuration profile install করতে হয়, তারপর কাজ একইভাবে চলে — Wi-Fi ও ডেটা দুটোতেই। ফাইলটা Safari দিয়ে নামাতে হবে, Chrome দিয়ে হবে না; এই একটা কারণেই বেশিরভাগ মানুষ প্রথমবার আটকে যান। ধাপগুলো সেটআপ গাইড পাতায় লেখা আছে।

ও কি এটা বন্ধ করে দিতে পারবে?

পারবে। Settings-এ ঢুকে Private DNS বন্ধ করা কঠিন কিছু না, আর এটা আপনার জানা থাকা দরকার — কারণ যে সুরক্ষার সীমা আপনি জানেন না, সেটার ওপর ভরসা করাটাই বিপজ্জনক।

দুটো জিনিস এই ঝুঁকি অনেকটা কমায়। এক, ফোনের Settings-এ তালা দিয়ে রাখা — iPhone-এ Screen Time PIN দিয়ে, Android-এ Family Link বা Digital Wellbeing দিয়ে। PIN-টা জন্মতারিখ দেবেন না, ওটা সবার আগে চেষ্টা করা হয়।

দুই, ড্যাশবোর্ডে চোখ রাখা। প্রতিটা প্রোফাইল থেকে কত request আসছে সেটা দেখা যায়, আর কোনো ডিভাইস হঠাৎ চুপ হয়ে গেলে সেটা চোখে পড়ে। ফোন বন্ধ থাকলেও চুপ থাকে, সেটিং বদলালেও — কিন্তু দুটোর কোনোটাই আপনার অজান্তে ঘটে না।

আর সবচেয়ে কাজের ব্যবস্থাটা প্রযুক্তির না। সন্তানকে আগেই বলে রাখুন যে ফোনে এই ফিল্টার বসানো আছে, আর কেন বসানো আছে। লুকানো নিয়ম ভাঙার লোভ সবসময় বেশি, আর একদিন ধরা পড়লে যা ভাঙে সেটা আর জোড়া লাগে না।

এর সাথে আর কী কী জুড়তে পারেন

Google Play-তে parental control চালু করে রাখলে নতুন অ্যাপ নামাতে আপনার অনুমোদন লাগবে, ফলে অচেনা VPN অ্যাপ নামানোর সহজ পথটা বন্ধ হয়ে যায়।

Family Link বা Screen Time-এর সাথে এটাকে জুড়ে দিলে ভাগাভাগিটা পরিষ্কার হয় — ওরা সামলায় কতক্ষণ ফোন চলবে, ChayaNetwork সামলায় ফোনে কী খুলবে। দুটো আলাদা সমস্যা, একটা দিয়ে অন্যটার সমাধান হয় না।

আর মাঝেমধ্যে একসাথে বসে ফোনটা দেখুন। গোপনে নয় — "চলো দেখি সব ঠিক আছে কি না" এই স্বাভাবিক অভ্যাসটা ছোট থেকে থাকলে বড় হয়েও এটা নিয়ে কেউ অস্বস্তি বোধ করে না।

Wi-Fi আর মোবাইল ডেটা — একই সুরক্ষা, একবার সেটআপ

৭ দিন ফ্রি শুরু করুন সেটআপ গাইড

আপনার পরিবারকে নিরাপদ রাখুন

ChayaNetwork — বাংলাদেশি পরিবারের জন্য, ঢাকা থেকে বানানো।